শনিবার ২১ মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বঙ্গাব্দ
স্বাস্থ্য

রেটিনাল: বয়স কমানোর নতুন আলোচনায় ত্বকচর্চা জগৎ

বাসিতা আফরোজ ইরা ২১ জানু ২০২৬ ১২:০০ পি.এম

ত্বকচর্চা

ত্বকচর্চা ও সৌন্দর্যবিষয়ক গবেষণায় সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে রেটিনাল (Retinal বা Retinaldehyde)। ত্বকের বয়সজনিত পরিবর্তন কমানো এবং তারুণ্য ধরে রাখতে রেটিনালের ভূমিকা নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে বিশেষজ্ঞ ও ভোক্তাদের মধ্যে।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, রেটিনাল হলো ভিটামিন–এ পরিবারের একটি শক্তিশালী উপাদান, যা ত্বকের কোষ পুনর্গঠনে সহায়তা করে। এটি ত্বকে ব্যবহারের পর দ্রুত রেটিনোয়িক অ্যাসিডে রূপান্তরিত হয়, ফলে বলিরেখা, সূক্ষ্ম রেখা এবং ত্বকের অসম টেক্সচার কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। নিয়মিত ব্যবহারে রেটিনাল কোলাজেন উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করে, যা ত্বককে দৃঢ় ও মসৃণ রাখে।

 

ত্বকবিশেষজ্ঞরা বলছেন, রেটিনলের তুলনায় রেটিনাল তুলনামূলকভাবে দ্রুত কাজ করলেও এটি ব্যবহারে সতর্কতা প্রয়োজন। সংবেদনশীল ত্বকে জ্বালা বা শুষ্কতা দেখা দিতে পারে, তাই ধীরে ধীরে ব্যবহার শুরু করা এবং ময়েশ্চারাইজার ও সানস্ক্রিনের সঙ্গে ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

 

প্রাকৃতিক খাদ্য উৎসে রেটিনাল ও ভিটামিন–এ
বিশেষজ্ঞদের মতে, রেটিনাল সরাসরি অল্প কিছু প্রাণিজ খাদ্যে পাওয়া যায়, আর উদ্ভিজ্জ খাদ্যে পাওয়া যায় এর পূর্বধাপ বিটা-ক্যারোটিন, যা শরীরে গিয়ে রেটিনালে রূপান্তরিত হয়। বয়স কম দেখাতে ও ত্বক সুস্থ রাখতে নিচের প্রাকৃতিক খাদ্যগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে—

 

কলিজা (গরু বা মুরগির): ভিটামিন–এ ও রেটিনালের অন্যতম সমৃদ্ধ উৎস

ডিমের কুসুম: ত্বক ও চোখের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী

দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার: মাখন, ঘি ও চিজে ভিটামিন–এ পাওয়া যায়

গাজর: বিটা-ক্যারোটিনে ভরপুর, যা ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়

মিষ্টি কুমড়া ও লাল কুমড়া: প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ভালো উৎস

পালং শাক ও অন্যান্য গাঢ় সবুজ শাকসবজি: ত্বককে ভেতর থেকে পুষ্টি জোগায়

আম ও পেঁপে: ত্বক সতেজ রাখতে সহায়ক ফল

পুষ্টিবিদরা বলছেন, সঠিক খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে শরীরে ভিটামিন–এ-এর ঘাটতি পূরণ করা গেলে ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ও তারুণ্য অনেকটাই বজায় রাখা সম্ভব।

তবে বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা হলো—রেটিনাল বা ভিটামিন–এ অতিরিক্ত গ্রহণ শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই খাদ্য ও স্কিনকেয়ার—দুই ক্ষেত্রেই ভারসাম্য বজায় রেখে এবং প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে ব্যবহার করাই সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর উপায়।

 

বাসিতা আফরোজ ইরা

খাদ্য ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞ